Ticker

6/recent/ticker-posts

ভারতের গুরুত্বপূর্ণ হ্রদগুলির সম্পূর্ণ বর্ণনা

ভারতের ভৌগোলিক বৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা ছোটো বড় অসংখ্য হ্রদ। এই হ্রদগুলি দেশের পরিবেশ, জলসম্পদ, জীববৈচিত্র্য এবং অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে ভারতের এই গুরুত্বপূর্ণ হ্রদ গুলির বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হল:

সূচিপত্র:


ভারতের গুরুত্বপূর্ণ হ্রদসমূহ


1. উলার হ্রদ


উলার হ্রদ হল ভারতের অন্যতম বৃহত্তম স্বাদু জলের হ্রদ। এটি ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বান্দিপোরা জেলায় অবস্থিত। ভৌগোলিক, পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক দিক থেকে এই হ্রদ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।


◼ অবস্থান

উলার হ্রদটি ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বান্দিপোরা জেলায় অবস্থিত। শ্রীনগর শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এর অবস্থান।


উৎপত্তি

এটি একটি প্রাকৃতিক টেকটনিক হ্রদ। ভূগর্ভস্থ টেকটনিক পাতের নড়াচড়ার ফলে সৃষ্ট অবনত ভূমিতে প্রাকৃতিকভাবে এই বিশাল হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে।


জলের উৎস

এই হ্রদের জলের প্রধান উৎস হলো কাশ্মীর উপত্যকার ঝিলাম নদী। ঝিলাম নদী উলার হ্রদের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারণে এর জল সর্বদা মিষ্টি থাকে। এছাড়া 'মধুমাতি' ও 'এরিন' নামে দুটি পাহাড়ি নদীও এটিতে মিশেছে।


আয়তন

ঋতুভেদে উলার হ্রদের আয়তন উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়। শীতকালে বা শুষ্ক ঋতুতে এর আয়তন কমে প্রায় ৩০ থেকে ১০০ বর্গকিলোমিটারের কাছাকাছি চলে আসে। তবে বর্ষাকালে এবং পার্বত্য অঞ্চলের বরফ গলার সময়ে জল বেড়ে এই হ্রদের আয়তন প্রায় ২৬০ বর্গকিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।


পরিবেশগত গুরুত্ব:

​● রামসার সাইট: পরিবেশগত গুরুত্ব এবং সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের কারণে ১৯৯০ সালে উলার হ্রদকে 'রামসার সাইট' হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

​● পরিযায়ী পাখির আবাসস্থল: এই হ্রদ শীতকালে সাইবেরিয়া এবং মধ্য এশিয়া থেকে আসা হাজার হাজার পরিযায়ী পাখির  অন্যতম প্রধান আশ্রয়স্থল।

​● বন্যা নিয়ন্ত্রণ: ঝিলাম নদীর অতিরিক্ত জল শোষণ করে এটি কাশ্মীর উপত্যকাকে বড় ধরনের বন্যার হাত থেকে রক্ষা করে।


◼ ​অর্থনৈতিক গুরুত্ব:

​● মৎস্য চাষ: উলার হ্রদ স্থানীয় অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। জম্মু ও কাশ্মীরের মোট উৎপাদিত মাছের প্রায় ৬০% এই হ্রদ থেকেই আসে। এর ফলে এটি হাজার হাজার মৎস্যজীবী পরিবারের জীবিকার প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে।

​● পানিফল চাষ: এই হ্রদে বিপুল পরিমাণে পানিফলের চাষও হয়ে থাকে। এই পানিফল স্থানীয় বাজারে বিক্রির পাশাপাশি ভারতের অন্যান্য রাজ্যেও পাঠানো হয়।

​● পর্যটন শিল্প: উলার হ্রদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, জীববৈচিত্র্য এবং কৃত্রিম দ্বীপ 'জয়নুল লঙ্ক' দেখার জন্য দেশ-বিদেশের বহু পর্যটক এখানে আসেন। ফলে এটি স্থানীয় পর্যটন শিল্প ও অর্থনীতির  বিকাশে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে।


2. ডাল হ্রদ


◼ অবস্থান:

ডাল হ্রদটি ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের শ্রীনগর শহরে অবস্থিত। এটি জাবারওয়ান পর্বতশ্রেণীর পাদদেশে অবস্থিত এবং চারপাশে শালিমার বাগ, নিশাত বাগ ও চশমে শাহী প্রভৃতি বিখ্যাত মুঘল উদ্যান দ্বারা পরিবেষ্টিত। মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য একে ‘শ্রীনগরের রত্ন’ এবং ‘কাশ্মীরের মুকুট’ বলা হয় থাকে।


উৎপত্তি:

ভূপ্রাকৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ডাল হ্রদটি একটি উত্তর-হিমবাহ যুগের হ্রদ। ভূবিজ্ঞানীর মতে, এটি মূলত ঝিলাম নদীর একটি প্রাচীন প্লাবনভূমি বা জলাভূমি ছিল, যা কালক্রমে একটি স্থায়ী হ্রদে পরিণত হয়েছে। এর তলদেশের গঠন বেশ জটিল এবং এটি কয়েকটি ছোট-বড় অববাহিকায় বিভক্ত।


◼ ​জলের উৎস:

এই হ্রদের জলের প্রধান উৎস হলো এর চারপাশের পাহাড় থেকে আসা অসংখ্য প্রাকৃতিক ঝরণা। বিশেষ করে তেলবল নালা নামক একটি প্রধান পাহাড়ি স্রোত এই হ্রদে মিষ্টি জলের জোগান দেয়। এছাড়া এর তলদেশে অবস্থিত ভূগর্ভস্থ ঝরণা বা স্প্রিং থেকেও এটিতে জল সরবরাহ হয়।


আয়তন:

ডাল হ্রদের মোট আয়তন প্রায় ১৮ থেকে ২২ বর্গকিলোমিটার। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৭.৪৪ কিমি এবং প্রস্থ প্রায় ৩.৫ কিমি। এর গড় গভীরতা প্রায় ১.৫ মিটার। তবে কিছু কিছু অংশে এর সর্বোচ্চ গভীরতা প্রায় ৬ মিটার পর্যন্ত হতে পারে। হ্রদটি মূলত চারটি প্রধান অববাহিকা নিয়ে গঠিত, এগুলি হল গগ্রিবল, লোকুট ডাল, বোদ ডাল এবং নাগিন।


পরিবেশগত গুরুত্ব:

​● সমৃদ্ধ জলজ বাস্তুতন্ত্র: ডাল হ্রদে বিভিন্ন প্রজাতির জলজ উদ্ভিদ, শৈবাল ও মাছের বসবাস করে। পদ্মফুল, শালুক এবং অন্যান্য জলজ উদ্ভিদ হ্রদের জীববৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করে তুলেছে।

​● ​আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ: এই হ্রদের বিশাল জলরাশি শ্রীনগর এবং তার আশেপাশের অঞ্চলের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

​● পাখিদের আশ্রয়স্থল: স্থানীয় জলজ পাখির পাশাপাশি শীতকালে বিভিন্ন পরিযায়ী পাখি এই হ্রদে আশ্রয় নেয়।


অর্থনৈতিক গুরুত্ব:

​● পর্যটন শিল্প: ডাল হ্রদ হল কাশ্মীরের পর্যটন শিল্পের মেরুদণ্ড। এখানকার ঐতিহ্যবাহী কাঠের তৈরি নৌকা বা 'শিকারী' এবং ভাসমান হোটেল বা 'হাউসবোট' বিশ্ববিখ্যাত। এর মাধ্যমে এখানকার হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়।

​● ​ভাসমান বাজার: ডাল হ্রদের একটি বড় অর্থনৈতিক বৈশিষ্ট্য হলো এর সকালের ভাসমান সবজি বাজার। স্থানীয় কৃষকরা নৌকায় করে হ্রদে উৎপাদিত টাটকা সবজি কেনাবেচা করেন।

​● ​ভাসমান উদ্যান: হ্রদের জলে কৃত্রিমভাবে তৈরি ভাসমান চিলতে জমিতে প্রচুর পরিমাণে টমেটো, শসা ও তরমুজ চাষ হয়। এই জমিকে স্থানীয় ভাষায়  'রাদ' বলা হয়। এটি এখানকার স্থানীয় মানুষদের আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।


3. প্যাঙ্গং সো হ্রদ


◼ অবস্থান:

প্যাঙ্গং সো ভারতের লাদাখ এবং তিব্বতের সীমান্তে অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা প্রায় ৪,২২৫ মিটার। এটি বিশ্বের অন্যতম উচ্চতম লবণাক্ত জলের হ্রদ।


উৎপত্তি:

এটি একটি টেকটনিক হ্রদ। ভূগর্ভস্থ পাতের সংঘর্ষে সৃষ্ট ফাটল বা অবনত অঞ্চলে এই হ্রদটির উৎপত্তি। এটি হল একটি এন্ডোরহেইক বা বন্ধ অববাহিকা। অর্থাৎ, এই হ্রদের জল বাইরে কোনো নদীপথে সমুদ্র বা বড় কোনো জলাশয়ে গিয়ে মেশে না।


◼ ​জলের উৎস:

এই হ্রদের জলের প্রধান উৎস হলো চারপাশের হিমবাহের বরফ গলা জল। উচ্চতা এবং প্রতিকূল পরিবেশের কারণে এখানে কোনো বহির্গামী জলপথ নেই। তাই বাষ্পীভবনের মাধ্যমে জল কমে যাওয়ার কারণে এর জল লবণাক্ত বা ঈষৎ নোনা হয়ে থাকে।


আয়তন:

হ্রদটি লম্বায় প্রায় ১৩৪ কিলোমিটার এবং চওড়ায় প্রায় ৫ কিলোমিটার। এর মোট আয়তন প্রায় ৬০০-৭০০ বর্গকিলোমিটারের কাছাকাছি। হ্রদটির প্রায় ৪০ শতাংশ অংশ ভারতের লাদাখ এবং বাকি ৬০ শতাংশ অংশ তিব্বতের অন্তর্গত।


পরিবেশগত গুরুত্ব:

​● উচ্চ উচ্চতার বাস্তুতন্ত্র: প্যাঙ্গং সো লাদাখের শীতল মরুভূমি অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তুক্ষেত্র। প্রতিকূল জলবায়ু সত্ত্বেও এই হ্রদের কারণে এখানে বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী বেঁচে থাকতে পারে।

​● পাখিদের আবাসস্থল: পরিযায়ী পাখিদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। বিশেষ করে 'বার-হেডেড গিজ' এবং বিভিন্ন প্রজাতির হাঁস এখানে প্রজনন ঋতুতে ভিড় করে।

​● ​শীতকালীন দৃশ্য: শীতকালে এখানকার তাপমাত্রা প্রায়শই –৩০° সেলসিয়াসের নিচে নেমে যায়। ফলে সম্পূর্ণ হ্রদে বরফ জমে যায় এবং এক অনন্য প্রাকৃতিক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়।


অর্থনৈতিক গুরুত্ব:

​● পর্যটন: প্যাঙ্গং সো হল লাদাখের পর্যটন শিল্পের প্রাণকেন্দ্র। পর্যটনকে কেন্দ্র করে এখানে স্থানীয় মানুষের জন্য হোমস্টে, পরিবহন, হস্তশিল্প ও খাদ্য ব্যবসায় অনেক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

​● ​পশুপালন: এই হ্রদ সংলগ্ন এলাকায় যাযাবর সম্প্রদায়ের বিভিন্ন মানুষ গবাদি পশু পালন করে থাকেন। তাই এটি তাদের অর্থনীতির একটি বড় অংশ।


4. সো মোরিরি হ্রদ


◼ অবস্থান:

এটি ভারতের লাদাখের চ্যাংথাং মালভূমিতে অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা প্রায় ৪,৫২২ মিটার।


উৎপত্তি:

এটি একটি টেকটনিক ও এন্ডোরহেইক বা বন্ধ অববাহিকা হ্রদ। এটি ভূগর্ভস্থ পাতের নড়াচড়ার ফলে সৃষ্ট নিচু ভূমিতে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হয়েছে।


জলের উৎস:

পার্শ্ববর্তী হিমবাহ থেকে গলে আসা বরফ এবং ঝরণার জলই এই হ্রদের প্রধান উৎস। এর জল ঈষৎ লবণাক্ত।


আয়তন:

এই হ্রদটি লম্বায় প্রায় ১৯ কিলোমিটার এবং চওড়ায় প্রায় ৩ থেকে ৫ কিলোমিটার বিস্তৃত। এর মোট আয়তন প্রায় ১২০ বর্গকিলোমিটার।


পরিবেশগত গুরুত্ব:

​● রামসার সাইট: সমৃদ্ধ ও স্পর্শকাতর জীববৈচিত্র্যের কারণে ২০০২ সালে সো মোরিরি হ্রদকে আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন 'রামসার সাইট' হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এটি ভারতের অন্যতম উচ্চতম রামসার সাইট।

​● ​দুর্লভ পাখিদের প্রজনন ক্ষেত্র: এটি অত্যন্ত বিপন্ন প্রজাতির কালো-ঘাড় ক্রেন এবং বার-হেডেড গিজের প্রধান প্রজনন ক্ষেত্র।

​● বন্যপ্রাণীর আশ্রয়স্থল: এই হ্রদের আশেপাশের অঞ্চলে লাদাখি বন্য গাধা, তিব্বতি নেকড়ে এবং তিব্বতি গ্যাজেল বা হরিণ দেখতে পাওয়া যায়।


অর্থনৈতিক গুরুত্ব:

​● নিয়ন্ত্রিত পর্যটন: প্যাঙ্গং হ্রদের তুলনায় সো মোরিরি অনেক বেশি শান্ত এবং সংরক্ষিত অঞ্চল। এখানে আগত পর্যটকদের মাধ্যমে স্থানীয় হোমস্টে, ক্যাম্পিং, গাইড পরিষেবা ও পরিবহন ব্যবসার বিকাশ ঘটেছে। এটি স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

​● চ্যাংপা উপজাতির জীবিকা: হ্রদের পার্শ্ববর্তী তৃণভূমিতে চ্যাংপা  যাযাবর জনগোষ্ঠীর মানুষেরা পশমিনা ছাগল, ইয়াক ও ভেড়া পালন করে জীবিকা নির্বাহ করে। বিশেষ করে বিশ্ববিখ্যাত পশমিনা পশম উৎপাদন এই অঞ্চলের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি।



5. চিল্কা হ্রদ


চিল্কা হ্রদ হলো ভারত তথা এশিয়ার বৃহত্তম এবং বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সামুদ্রিক হ্রদ বা লেগুন। এটি ভারতের পূর্ব উপকূলে অবস্থিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক জলাভূমি।


◼ অবস্থান:

চিল্কা হ্রদ ভারতের ওড়িশা রাজ্যের পূর্ব উপকূলে অবস্থিত। হ্রদটি মূলত পুরী, খুরদা এবং গঞ্জাম জেলা জুড়ে বিস্তৃত এবং বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত।


উৎপত্তি:

চিল্কা একটি উপহ্রদ বা লেগুন। বঙ্গোপসাগরের ঢেউ, স্রোত এবং বালুকাস্তূপের প্রভাবে সমুদ্রের একটি অংশ মূল ভূখণ্ড থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন হয়ে এই বিশাল জলাভূমির সৃষ্টি হয়েছে।


জলের উৎস:

চিল্কা হ্রদের জলের উৎস মিশ্র প্রকৃতির। দয়া ও ভার্গবী নদীসহ প্রায় ৫২টি ছোট-বড় নদী ও ঝরণার মিষ্টি জল এটিতে মেশে।  অন্যদিকে বঙ্গোপসাগরের নোনা জলও এখানে প্রবেশ করে। ফলে এর জল ঈষৎ নোনা বা খারি প্রকৃতির হয়।


আয়তন:

ঋতুভেদে এর আয়তন পরিবর্তিত হয়ে থাকে। শুষ্ক মৌসুমে বা শীতকালে এর আয়তন থাকে প্রায় ৯০০ বর্গকিলোমিটার। কিন্তু বর্ষাকালে জল বেড়ে গিয়ে এটি প্রায় ১,১৬৫ বর্গকিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।


পরিবেশগত গুরুত্ব:

​● প্রথম রামসার সাইট: ১৯৮১ সালে চিল্কা হ্রদকে ভারতের প্রথম আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন জলাভূমি বা 'রামসার সাইট'  হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

​● পরিযায়ী পাখির স্বর্গরাজ্য: শীতকালে কাস্পিয়ান সাগর, বৈকাল হ্রদ, সাইবেরিয়া এবং মধ্য এশিয়া থেকে লক্ষ লক্ষ পরিযায়ী পাখি এখানে আশ্রয় নেয়। এই হ্রদে থাকা 'নলবাণ পাখি অভয়ারণ্য' পাখিদের প্রধান কেন্দ্র।

​● ​ইরাবতী ডলফিন: চিল্কা হ্রদ বিপন্ন প্রজাতির ইরাবতী ডলফিনের অন্যতম প্রধান বাসস্থান। ভারতে এই প্রজাতির ডলফিন খুব কম জায়গাতেই দেখা যায়।


অর্থনৈতিক গুরুত্ব:

​● ​মৎস্য শিল্প: চিল্কা হ্রদ হল ওড়িশার মৎস্য অর্থনীতির মেরুদণ্ড। এখান থেকে প্রচুর পরিমাণে মাছ, কাঁকড়া এবং গলদা চিংড়ি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ও বিদেশে রপ্তানি হয়। হ্রদের চারপাশে থাকা প্রায় দেড় লক্ষেরও বেশি মৎস্যজীবী মানুষের জীবিকা সরাসরি এর ওপর নির্ভরশীল।

​● পর্যটন শিল্প: নৌকাভ্রমণ, পরিযায়ী পাখি ও ডলফিন দেখার জন্য প্রতি বছর দেশ-বিদেশের লাখ লাখ পর্যটক এখানে আসেন। তাছাড়া, কালিজাই মন্দির হল এখানকার অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ।


6. কোলেরু হ্রদ


কোলেরু হ্রদ হলো ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যে অবস্থিত একটি  বিখ্যাত মিষ্টি জলের হ্রদ। এটি কৃষ্ণা ও গোদাবরী নদীর বদ্বীপ বা ডেল্টা অঞ্চলের মাঝামাঝি জায়গায় অবস্থিত।


◼ অবস্থান:

কোলেরু হ্রদ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের এলুরু এবং কৃষ্ণা জেলা জুড়ে বিস্তৃত। এটি কৃষ্ণা ও গোদাবরী নদীর ডেল্টা অঞ্চলের মাঝখানে একটি প্রাকৃতিক নিম্নভূমিতে অবস্থিত।


উৎপত্তি:

এটি একটি প্রাকৃতিক মিষ্টি জলের অববাহিকা হ্রদ। মূলত কৃষ্ণা ও গোদাবরী নদীর পলি জমার কারণে সমুদ্র উপকূল থেকে মূল ভূখণ্ড কিছুটা বিচ্ছিন্ন হয়ে এই অগভীর হ্রদটির সৃষ্টি হয়েছে।


জলের উৎস:

এই হ্রদের জল সম্পূর্ণ মিষ্টি। বুদামেরু, তাম্মিলেরু  এবং কিছু ক্ষুদ্র নদী ও জলধারা হ্রদে জল সরবরাহ করে। এছাড়া আশপাশের কৃষিজমি থেকে প্রবাহিত জলও এটিতে এসে মেশে।


আয়তন:

বর্ষাকালে হ্রদটির আয়তন বেড়ে প্রায় ২৪৫ বর্গকিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। তবে শীতকাল বা শুষ্ক মৌসুমে জল শুকিয়ে এর মূল আয়তন অনেকটাই কমে যায়।


পরিবেশগত গুরুত্ব:

​● রামসার সাইট: বিশেষ পরিবেশগত গুরুত্ব এবং জীববৈচিত্র্যের কারণে ২০০২ সালের নভেম্বর মাসে কোলেরু হ্রদকে 'রামসার সাইট' হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

​● পাখি অভয়ারণ্য: এই হ্রদ সংলগ্ন অঞ্চলটিকে 'কোলেরু পাখি অভয়ারণ্য' হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। এটি ধূসর পেলিক্যান, এশীয় শামুকখোল এবং রঙিলা সারস বা পেইন্টেড স্টার্কের মতো বিলুপ্তপ্রায় পাখিদের অন্যতম প্রধান বাসস্থান।

​● প্রাকৃতিক জলছাঁকনি: হ্রদটি এই অঞ্চলের অতিরিক্ত বন্যার জল ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং চারপাশের বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখে।


অর্থনৈতিক গুরুত্ব:

​● অ্যাকুয়াকালচার বা মৎস্য চাষ: কোলেরু হ্রদ অঞ্চলটি ভারতের অন্যতম বড় মাছ উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এখানকার কৃত্রিম উপায়ে তৈরি করা দিঘি বা পুকুরগুলোতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করা হয়। এই মাছ চাষ এখানকার হাজার হাজার মানুষের প্রধান জীবিকা।

​● কৃষিকাজ ও সেচ: হ্রদের চারপাশের উর্বর জমিতে স্থানীয় কৃষকরা ধান এবং বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষের জন্য এই হ্রদের জল ব্যবহার করেন।

​● পর্যটন: শীতকালে বিপুল সংখ্যক পরিযায়ী পাখির আগমনের ফলে কোলেরু হ্রদ পাখিপ্রেমী ও প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকদের কাছে এক বিশেষ আকর্ষণ। এর ফলে স্থানীয় পর্যটন শিল্প ও অর্থনীতি বেশ উপকৃত হয়।


7. পুলিকট হ্রদ


পুলিকট হ্রদ হলো চিল্কা হ্রদের পর ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম লবণাক্ত জলের উপহ্রদ বা লেগুন। এটি ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তামিলনাড়ু রাজ্যের সীমান্তে অবস্থিত একটি অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় জলাভূমি।


◼ অবস্থান:

পুলিকট হ্রদ ভারতের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অন্ধ্রপ্রদেশের নেল্লোর জেলা এবং তামিলনাড়ুর তিরুভাল্লুর জেলা জুড়ে বিস্তৃত। হ্রদের প্রায় ৮৪% অংশ অন্ধ্রপ্রদেশে এবং অবশিষ্ট ১৬% অংশ তামিলনাড়ুতে অবস্থিত। বিখ্যাত শ্রীহরিকোটা ব্যারিয়ার দ্বীপ হ্রদটিকে বঙ্গোপসাগর থেকে পৃথক করেছে। এই শ্রীহরিকোটা দ্বীপেই ভারতের বিখ্যাত মহাকাশ উৎক্ষেপণ কেন্দ্র অবস্থিত।


উৎপত্তি:

চিল্কার মতোই এটি একটি উপকূলীয় উপহ্রদ বা লেগুন। সমুদ্রের ঢেউ এবং বালির প্রাচীর বা স্তূপ জমার কারণে বঙ্গোপসাগরের জল মূল ভূখণ্ডের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে প্রাকৃতিকভাবে এই অগভীর হ্রদটির সৃষ্টি হয়েছে।


জলের উৎস:

এর জলের উৎস মিশ্র প্রকৃতির। আরানি, কালঙ্গি এবং স্বর্নমুখী নদীর মিষ্টি জল এই হ্রদে এসে মেশে। অন্যদিকে শ্রীহরিকোটার উত্তর ও দক্ষিণ প্রান্তের খাঁড়ি দিয়ে বঙ্গোপসাগরের নোনা জল এটিতে প্রবেশ করে।


আয়তন:

ঋতুভেদে পুলিকট হ্রদের আয়তন পরিবর্তিত হয়। সাধারণত এর মোট আয়তন প্রায় ২৫০ থেকে ৪৫০ বর্গকিলোমিটারের মধ্যে ওঠানামা করে। এর গড় গভীরতা মাত্র ৩ ফুট এবং সর্বোচ্চ গভীরতা প্রায় ২০ ফুটের কাছাকাছি।


পরিবেশগত গুরুত্ব:

​● ফ্লেমিঙ্গো পাখির স্বর্গরাজ্য: পুলিকট হ্রদ তার বিখ্যাত পাখি অভয়ারণ্যের জন্য বিশেষ সুপরিচিত। প্রতি বছর শীতকালে এখানে হাজার হাজার গ্রেটার ফ্লেমিঙ্গো বা রাজহংসী পাখির আগমন ঘটে। এছাড়া বিভিন্ন প্রজাতির সারস ও পরিযায়ী পাখি এখানে আশ্রয় নেয়।

​● সমৃদ্ধ জলজ বাস্তুতন্ত্র: হ্রদের অগভীর নোনা জল এবং কাদা মিশ্রিত তলদেশ বিভিন্ন ক্ষুদ্র জলজ প্রাণী, শৈবাল এবং মাছের জন্য এখানে এক আদর্শ পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।


অর্থনৈতিক গুরুত্ব:

​● মৎস্য ও চিংড়ি চাষ: পুলিকট হ্রদ হল এই অঞ্চলের স্থানীয় অর্থনীতির মূল ভিত্তি। এখান থেকে প্রচুর পরিমাণে সাদা চিংড়ি, কাঁকড়া এবং বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ ধরা হয়। হ্রদের চারপাশের প্রায় ৫০টিরও বেশি গ্রামের মৎস্যজীবী মানুষ অর্থনৈতিক দিক থেকে সম্পূর্ণভাবে এই হ্রদের ওপর নির্ভরশীল।

​● পর্যটন শিল্প: প্রতি বছর অক্টোবর থেকে মার্চ মাসের মধ্যে এখানে বিপুল সংখ্যক পর্যটক ভ্রমণ করতে আসেন। এর ফলে এখানে স্থানীয় পর্যটন, পরিবহন ও ক্ষুদ্র ব্যবসার বিকাশ ঘটছে।


8. লোকটাক হ্রদ


লোকটাক হ্রদ হলো ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বৃহত্তম মিষ্টি জলের হ্রদ। এর ওপর ভেসে থাকা ছোট ছোট অসংখ্য দ্বীপের মতো ভূখণ্ডের জন্য এটি বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত।


◼ অবস্থান: 

লোকটাক হ্রদটি মণিপুরের বিষ্ণুপুর জেলায় অবস্থিত। এটি মণিপুরের রাজধানী ইম্ফল থেকে প্রায় ৫৩ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত।


উৎপত্তি: 

ভূপ্রাকৃতিক দিক থেকে এটি একটি প্রাকৃতিক টেকটনিক ও অববাহিকা হ্রদ। মূলত মণিপুর উপত্যকার নিচু সমতল ভূমিতে নদী অববাহিকার জল জমা হয়ে প্রাকৃতিকভাবে এই বিশাল হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে।


জলের উৎস: 

এই হ্রদের জল সম্পূর্ণ মিষ্টি। হ্রদের প্রধান জলের উৎস হলো মণিপুর নদী অববাহিকার বিভিন্ন নদী ও পাহাড়ি জলধারা। এর মধ্যে নাম্বুল, ইরিল, থৌবল প্রভৃতি ক্ষুদ্র নদী উল্লেখযোগ্য।


আয়তন: 

ঋতুভেদে এর আয়তন পরিবর্তিত হয়। সাধারণত শুষ্ক ঋতুতে এর আয়তন থাকে প্রায় ২৫০ বর্গকিলোমিটার। তবে বর্ষাকালে জল বাড়ার ফলে এটি প্রায় ২৮৭ বর্গকিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।


পরিবেশগত গুরুত্ব:

​● ফুমদি: এই হ্রদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো 'ফুমদি'। এগুলো হলো মাটি, লতাপাতা ও জলজ উদ্ভিদ পচে তৈরি হওয়া ভাসমান দ্বীপসদৃশ।

​● বিশ্বের একমাত্র ভাসমান জাতীয় উদ্যান: এই হ্রদের ওপর থাকা বৃহত্তম ফুমদিটিকে নিয়ে গড়ে উঠেছে 'কেইবুল লামজাও জাতীয় উদ্যান'। এটি বিশ্বের একমাত্র ভাসমান জাতীয় উদ্যান।

​● সাংগাই হরিণ: মণিপুরের রাজ্য প্রাণী 'সাংগাই' বা ড্যান্সিং ডিয়ার একমাত্র এই ভাসমান জাতীয় উদ্যানেই বেঁচে রয়েছে। এটি হল বিশ্বের অন্যতম বিরল ও বিপন্ন প্রজাতির হরিণ।

​● রামসার সাইট: জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত গুরুত্বের কারণে ১৯৯০ সালে লোকটাক হ্রদকে আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন রামসার সাইট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।


অর্থনৈতিক গুরুত্ব:

​● জলবিদ্যুৎ উৎপাদন: লোকটাক হ্রদের জল ব্যবহার করে মণিপুরের লোকটাক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প পরিচালিত হয়। এটি রাজ্যের একটি বড় অংশের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করে।

​● মৎস্য চাষ ও জীবিকা: হ্রদটি স্থানীয় মৎস্যজীবীদের জীবিকার প্রধান উৎস। এখানকার বহু পরিবার ফুমদির ওপর নির্মিত অস্থায়ী কুঁড়েঘরে বসবাস করে এবং মাছ ধরার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে। এই অস্থায়ী কুঁড়েঘরে গুলি স্থানীয় ভাষায় ‘ফুমশাং’ নামে পরিচিত।

​● পর্যটন শিল্প: লোকটাক হ্রদের ভাসমান দ্বীপ, মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং বিরল সাংগাই হরিণ দেখার জন্য প্রতি বছর বহু পর্যটক মণিপুরে ভ্রমণে আসেন। এর ফলে এখানে পর্যটন শিল্প ও অন্যান্য কর্মসংস্থানের বিকাশ ঘটেছে।


9. সম্বর হ্রদ


সম্বর হ্রদ হলো ভারতের বৃহত্তম অভ্যন্তরীণ লবণাক্ত জলের হ্রদ। এটি ভারতের অন্যতম প্রধান লবণ উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।


◼ অবস্থান: 

এই হ্রদটি ভারতের রাজস্থান রাজ্যে অবস্থিত। এটি মূলত জয়পুর, আজমের ও নাগৌর জেলার সীমান্তে বিস্তৃত। এটি জয়পুর শহর থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত।


উৎপত্তি: 

এটি একটি প্রাকৃতিক টেকটনিক ও এন্ডোরহেইক বা বন্ধ অববাহিকার হ্রদ। আরাবল্লী পর্বতমালার নিম্নভূমিতে ভূ-গাঠনিক পরিবর্তনের ফলে এই হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। এখানে কোনো বহির্গামী নদী না থাকায় কয়েক হাজার বছর ধরে জল জমে ও বাষ্পীভূত হয়ে এই হ্রদটি চরম লবণাক্ত হ্রদে পরিণত হয়েছে।


জলের উৎস: 

এই হ্রদের জল চরম মাত্রায় লবণাক্ত। হ্রদটির প্রধান জলের উৎস হলো মেন্দা, রূপনগড়, খারিয়ান এবং খাণ্ডেলা অঞ্চলের কয়েকটি মরশুমি নদী ও নালা।


◼ ​আয়তন: 

ঋতুভেদে সম্বর হ্রদের আয়তনে অনেক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। বর্ষাকালে এর সর্বোচ্চ আয়তন প্রায় ১৯০ থেকে ২৩০ বর্গকিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। তবে এর গভীরতা ঋতুভেদে মাত্র ২ ফুট থেকে সর্বোচ্চ ১০ ফুটের কাছাকাছি থাকে। গ্রীষ্মকালে হ্রদের বেশিরভাগ জল শুকিয়ে মাইলের পর মাইল শুধু সাদা লবণের চাদর দৃশ্যমান হয়।


পরিবেশগত গুরুত্ব:

​● রামসার সাইট: এই হ্রদের বিশেষ পরিবেশগত গুরুত্ব এবং জীববৈচিত্র্যের কারণে ১৯৯০ সালে এটিকে আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন 'রামসার সাইট' হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

​● ফ্লেমিঙ্গো পাখির আশ্রয়স্থল: পুলিকট বা চিল্কা হ্রদের মতোই সম্বর হ্রদ উত্তর এশিয়া এবং সাইবেরিয়া থেকে আসা পরিযায়ী ফ্লেমিঙ্গো বা রাজহংসী পাখিদের অন্যতম প্রধান বাসস্থান। বিশেষ করে হ্রদের জলে জন্মানো এক ধরণের বিশেষ শৈবাল ও ক্ষুদ্র জীব এই পাখিদের প্রধান খাদ্য।


অর্থনৈতিক গুরুত্ব:

​● ​লবণ উৎপাদন: সম্বর হ্রদ হল ভারতের অন্যতম বৃহৎ লবণ উৎপাদন কেন্দ্র। হ্রদের জল বাষ্পীভূত করে বাণিজ্যিকভাবে লবণ উৎপাদন করা হয়। এখানকার লবণ শিল্প স্থানীয় অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি এবং হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের উৎস।

​● ​পর্যটন শিল্প: সম্বর হ্রদের বিস্তীর্ণ সাদা লবণের প্রান্তর, সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য এবং পরিযায়ী পাখির সমাবেশ দেখার জন্য এখানে বহু পর্যটকদের আগমন ঘটে। এর ফলে স্থানীয় পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটেছে।


10. পুষ্কর হ্রদ


পুষ্কর হ্রদ রাজস্থান রাজ্যে অবস্থিত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পবিত্র তীর্থস্থান। আরাবল্লী পর্বতমালার কোলে অবস্থিত এই হ্রদটি ধর্মীয় গুরুত্ব, ঐতিহাসিক ঐতিহ্য এবং বিখ্যাত পুষ্কর মেলার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত।


◼ অবস্থান: 

পুষ্কর হ্রদটি ভারতের রাজস্থান রাজ্যের আজমের জেলায় অবস্থিত। এটি আজমের শহর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে পবিত্র পুষ্কর শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত।


উৎপত্তি: 

ভূপ্রাকৃতিক দিক থেকে এটি একটি প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট অববাহিকা হ্রদ। এটিকে দ্বাদশ শতাব্দীতে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে সংরক্ষিত ও সংস্কার করা হয়েছিল।

তবে এই পুষ্কর হ্রদের উৎপত্তি নিয়ে হিন্দু ধর্মে একটি পৌরাণিক কাহিনি প্রচলিত আছে। হিন্দু পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী, সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মার হাত থেকে একটি পদ্মফুল (পুষ্প) এখানে পতিত হলে সেই স্থানে জলধারা রূপে এই পুষ্কর হ্রদের সৃষ্টি হয়। ‘পুষ্কর’ শব্দটির অর্থই হলো ‘পদ্মফুল’।


জলের উৎস: 

এই হ্রদের জল সম্পূর্ণ মিষ্টি। মূলত চারপাশের আরাবল্লী পাহাড় থেকে বর্ষাকালে নেমে আসা বৃষ্টির জল এবং পাহাড়ি ছোট ছোট নালা বা ঝরণার জল এই হ্রদের জলের প্রধান উৎস।


◼ ​আয়তন: 

পুষ্কর হ্রদটি আকারে বেশ ছোট। এর মোট আয়তন প্রায় ০.২২ বর্গকিলোমিটার। এটি একটি অর্ধ-চন্দ্রাকৃতির হ্রদ। এর গড় গভীরতা প্রায় ১৫ ফুট থেকে সর্বোচ্চ ৩৩ ফুটের কাছাকাছি। হ্রদের চারপাশে ৫২টি পবিত্র স্নানের ঘাট এবং প্রায় ৫০০টি ছোট-বড় মন্দির রয়েছে।


◼ ​পরিবেশগত গুরুত্ব:

​● মরু অঞ্চলের জলাভূমি: রাজস্থানের শুষ্ক ও আধা-মরুভূমি অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় পুষ্কর হ্রদ স্থানীয় জলসম্পদ সংরক্ষণ এবং ভূগর্ভস্থ জলের স্তর বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

​● জলজ জীববৈচিত্র্য: হ্রদের মিষ্টি জলে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ এবং জলজ উদ্ভিদের বসবাস রয়েছে, যা স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষা করে।


অর্থনৈতিক গুরুত্ব:

​● ধর্মীয় পর্যটন ও তীর্থক্ষেত্র: পুষ্কর হ্রদ এবং এর পাশে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম প্রধান ব্রহ্মা মন্দিরকে কেন্দ্র করে এখানকার অর্থনীতি গড়ে উঠেছে। সারা বছর ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ পুণ্যার্থী পবিত্র স্নান ও পূজোর জন্য এখানে আসেন। 

​● বিশ্ববিখ্যাত পুষ্কর মেলা: প্রতি বছর কার্তিক পূর্ণিমায় এই হ্রদের পাড়ে বিশ্বের বৃহত্তম উটের মেলা বসে। এই সময়ে দেশ-বিদেশের হাজার হাজার পর্যটক ও আলোকচিত্রী এখানে আসেন। এটি রাজস্থানের পর্যটন অর্থনীতিতে এক উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে।


11. ভেম্বানাদ হ্রদ


ভেম্বানাদ হ্রদ হলো ভারতের দীর্ঘতম হ্রদ এবং কেরল রাজ্যের বৃহত্তম হ্রদ। এটি কেরলের বিখ্যাত 'ব্যাকওয়াটার্স' বা কয়াল অঞ্চলের প্রধান প্রাণকেন্দ্র।


◼ অবস্থান: 

ভেম্বানাদ হ্রদ ভারতের কেরল রাজ্যে অবস্থিত। এটি মূলত কোট্টায়াম, আলাপ্পুঝা, এর্নাকুলাম এবং আলুভা অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত। কোচি শহর সংলগ্ন অংশে এটি 'কোচি হ্রদ' নামেও পরিচিত।


উৎপত্তি: 

ভেম্বানাদ একটি উপকূলীয় লেগুন বা ব্যাকওয়াটার হ্রদ, যা স্থানীয়ভাবে ‘কয়াল’ নামে পরিচিত। সমুদ্রের পলি ও বালির প্রাচীর দ্বারা আরব সাগরের জল মূল ভূখণ্ডের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে প্রাকৃতিকভাবে এই বিশাল হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে।


জলের উৎস: 

এই হ্রদের জলের উৎস মিশ্র প্রকৃতির। পাম্বা, আচেনকোভিল, মীনচিল এবং মুভাট্টুপুঝা সহ প্রায় ১০টি নদী এই হ্রদে মিষ্টি জলের জোগান দেয়। অন্যদিকে কোচি খাঁড়ি দিয়ে আরব সাগরের নোনা জল এতে প্রবেশ করে। তবে হ্রদের জলের লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ করতে এখানে 'থান্নীরাজমুখম বুন্দ' নামক একটি লবণাক্ত জলরোধী বাঁধ তৈরি করা হয়েছে।


আয়তন: 

ভেম্বানাদ হ্রদ হল ভারতের দীর্ঘতম হ্রদ। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৯৬ কিলোমিটার এবং সর্বাধিক প্রস্থ প্রায় ১৪ কিলোমিটার। এর মোট আয়তন প্রায় ২,০৩৩ বর্গকিলোমিটার।


পরিবেশগত গুরুত্ব:

রামসার সাইট: অত্যন্ত সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত তাৎপর্যের কারণে ২০০২ সালে ভেম্বানাদ হ্রদকে আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন 'রামসার সাইট' হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

কুমারাকোম পাখি অভয়ারণ্য: এই হ্রদের পূর্ব তীরে বিখ্যাত 'কুমারাকোম পাখি অভয়ারণ্য' অবস্থিত। এটি সাইবেরিয়ান ক্রেনসহ অসংখ্য পরিযায়ী পাখির এক অন্যতম প্রধান আশ্রয়স্থল।

​● ​জলাভূমি বাস্তুতন্ত্র: ম্যানগ্রোভ অরণ্য এবং গভীর জলজ উদ্ভিদের উপস্থিতির কারণে এটি একটি অনন্য জলজ বাস্তুতন্ত্রে  পরিণত হয়েছে।


অর্থনৈতিক গুরুত্ব:

​● হাউসবোট পর্যটন: ভেম্বানাদ হ্রদ কেরলের পর্যটন শিল্পের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। ঐতিহ্যবাহী কাঠের তৈরি নৌকা ‘কেট্টুভাল্লাম’ বা হাউসবোটে ব্যাকওয়াটার ভ্রমণের জন্য দেশ-বিদেশের বিপুল সংখ্যক পর্যটক এখানে আসেন।

​● নেহেরু ট্রফি নৌকা বাইচ: প্রতি বছর আগস্ট মাসে এই হ্রদের পুন্নমাদা অংশে বিশ্ববিখ্যাত ঐতিহ্যবাহী নৌকার বাইচ বা 'স্নেক বোট রেস' অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রতিযোগিতা দেখার জন্য এখানে লক্ষাধিক পর্যটকের সমাগম হয়।

​● কৃষিকাজ ও মৎস্য চাষ: হ্রদের আশেপাশের কুত্তানাদ অঞ্চলকে  কেরলের ধানের গোলা বলা হয়। এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেকটা নিচে অবস্থিত। এখানে এই হ্রদের জল ব্যবহার করে বিশেষ পদ্ধতিতে কৃষিকাজ ও বিপুল পরিমাণে চিংড়ি ও মাছ চাষ করা হয়। এটি হল এখানকার স্থানীয় মানুষের প্রধান জীবিকা।


12. অষ্টমুদি হ্রদ


অষ্টমুদি হ্রদ হলো কেরল রাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম হ্রদ। ভেম্বানাদের মতো এটিও কেরলের বিখ্যাত 'ব্যাকওয়াটার্স' বা কয়ালের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ।


◼ অবস্থান: 

এই হ্রদটি ভারতের কেরল রাজ্যের কোল্লাম জেলায় অবস্থিত। কোল্লাম শহরটি এই হ্রদের তীরেই গড়ে উঠেছে।


উৎপত্তি: 

স্থানীয় মালয়ালম ভাষায় 'অষ্ট' কথার অর্থ আট এবং 'মুদি' কথার অর্থ মাথা বা শাখা। অর্থাৎ, হ্রদটির আটটি বড় বড় শাখা বা বাহু থাকায় এর নাম হয়েছে অষ্টমুদি। এটি হল একটি প্রাকৃতিক উপকূলীয় উপহ্রদ বা লেগুন। প্রাকৃতিকভাবে সমুদ্রের জল মূল ভূখণ্ডের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে এই হ্রদটি সৃষ্টি হয়েছে।


জলের উৎস: 

হ্রদটির জলের প্রকৃতি হল মিশ্র বা ঈষৎ লবণাক্ত। কেরলের বিখ্যাত কাল্লাডা নদী হল এই হ্রদের মিষ্টি জলের প্রধান উৎস। অন্যদিকে, নীন্দকারা খাঁড়ির মাধ্যমে এই হ্রদটি সরাসরি আরব সাগরের সাথে যুক্ত রয়েছে। এখান থেকে হ্রদে নোনা জল প্রবেশ করে।


আয়তন: 

অষ্টমুদি হ্রদের মোট আয়তন প্রায় ৬১.৪ বর্গকিলোমিটার। এর সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬ কিলোমিটার এবং প্রস্থ প্রায় ১৪ কিলোমিটার।


পরিবেশগত গুরুত্ব:

​● ​রামসার সাইট: সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য এবং অনন্য জলজ বাস্তুতন্ত্রের কারণে ২০০২ সালে অষ্টমুদি হ্রদকে আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন রামসার সাইট হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

ম্যানগ্রোভ ও জলজ বৈচিত্র্য: এই হ্রদ সংলগ্ন অঞ্চলে প্রায় ৪৩ প্রজাতিরও বেশি ম্যানগ্রোভ বা লবণাম্বু উদ্ভিদ রয়েছে। এছাড়া হ্রদের মাঝে থাকা ছোট ছোট দ্বীপগুলো পরিযায়ী পাখিদের এক অন্যতম প্রধান আশ্রয়স্থল।


অর্থনৈতিক গুরুত্ব:

পর্যটন: অষ্টমুদি হ্রদ কেরলের ব্যাকওয়াটার পর্যটনের অন্যতম প্রবেশদ্বার। কোল্লাম থেকে আলাপ্পুঝা পর্যন্ত দীর্ঘ নৌবিহার পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং এটি স্থানীয় পর্যটন শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

​● মৎস্য ও ঝিনুক শিল্প: এই হ্রদ মাছ, কাঁকড়া, চিংড়ি এবং ঝিনুক উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত। বিশেষ করে ঝিনুক আহরণ ও প্রক্রিয়াকরণ স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

নারকেলের ছোবড়া শিল্প: হ্রদ সংলগ্ন অঞ্চলে নারকেলের ছোবড়া প্রক্রিয়াকরণ এবং তা থেকে বিভিন্ন হস্তশিল্প ও দড়ি তৈরির এক বিশাল কুটির শিল্প গড়ে উঠেছে। এটি স্থানীয় নারীদের কর্মসংস্থানের একটি বড় উৎস।


13. নৈনিতাল হ্রদ


নৈনিতাল হ্রদ হলো ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের কুমাওন হিমালয়ে অবস্থিত একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় মিষ্টি জলের হ্রদ। পাহাড়ে ঘেরা এই হ্রদটির নাম থেকেই বিখ্যাত পর্যটন শহর 'নৈনিতাল'-এর নামকরণ হয়েছে। এছাড়া এই নৈনিতাল হ্রদকে ‘কুমায়ুনের রত্ন’ বলা হয়ে থাকে।


◼ অবস্থান: 

নৈনিতাল হ্রদ ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের নৈনিতাল জেলায় অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা প্রায় ১,৯৩৮ মিটার। হ্রদটি নৈনা পিক, দেওপাথা এবং আয়ারপাথা পর্বতশৃঙ্গ দ্বারা বেষ্টিত।


উৎপত্তি: 

ভূপ্রাকৃতিক দিক থেকে এটি একটি টেকটনিক ও হিমবাহের কার্যের ফলে গঠিত হ্রদ। কয়েক হাজার বছর আগে ভূগর্ভস্থ পাতের নড়াচড়া এবং হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে এই অববাহিকার সৃষ্টি হয়েছিল।

হিন্দু পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী, দেবী সতীর একটি চোখ (নয়ন) এখানে পতিত হয়েছিল। বিশ্বাস করা হয়, সেই থেকেই এই  ‘নৈনিতাল’ নামের উৎপত্তি হয়েছে।


জলের উৎস: 

এই হ্রদের জল সম্পূর্ণ মিষ্টি। মূলত চারপাশের পাহাড় থেকে নেমে আসা বৃষ্টির জল এবং বরফ গলা জলের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলধারা এই হ্রদের জলের প্রধান উৎস। এছাড়া হ্রদের তলদেশে থাকা নিজস্ব ভূগর্ভস্থ প্রাকৃতিক ঝরণাও এটির জলের অন্যতম উৎস।


আয়তন: 

হ্রদটি আকারে খুব একটা বেশি বড় নয়। এর মোট আয়তন প্রায়  ০.৫ বর্গকিলোমিটার। হ্রদটি লম্বায় প্রায় ১,৫০০ মিটার এবং চওড়ায় সর্বোচ্চ ৫১০ মিটার। এর সর্বোচ্চ গভীরতা প্রায় ২৮ মিটার।


পরিবেশগত গুরুত্ব:

পার্বত্য বাস্তুতন্ত্র: হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চলে হ্রদটি পরিবেশের ভারসাম্য ও আর্দ্রতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ: হ্রদের জলরাশি আশেপাশের অঞ্চলের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এর ফলে নৈনিতালের আবহাওয়া সারা বছর তুলনামূলকভাবে বেশ মনোরম থাকে।

● ​জীববৈচিত্র্য: এই হ্রদের পরিচ্ছন্ন জল সলমন ও ট্রাউট সহ বিভিন্ন প্রজাতির পাহাড়ি মাছ এবং জলজ উদ্ভিদের এক আদর্শ বাসস্থান।


অর্থনৈতিক গুরুত্ব:

পর্যটন শিল্প: নৈনিতাল হ্রদ উত্তরাখণ্ডের পর্যটন শিল্পের প্রধান আকর্ষণ। নৌবিহার, মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং আশেপাশের দর্শনীয় স্থান গুলির জন্য প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক পর্যটক এখানে আসেন।

পানীয় জলের উৎস: হ্রদের জল পরিশোধন করে নৈনিতাল শহরের একটি বড় অংশের পানীয় জলের চাহিদা পূরণ করা হয়।

​● ধর্মীয় গুরুত্ব: হ্রদের উত্তর তীরে অবস্থিত নৈনা দেবী মন্দির স্থানীয় অর্থনীতি ও পর্যটনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।


আরো পড়ুন:



Post a Comment

0 Comments