একটি আদর্শ সপুষ্পক উদ্ভিদের দেহকে প্রধানত দুটি অংশে ভাগ করা যায়। যথা- মূলতন্ত্র এবং বিটপতন্ত্র।
উদ্ভিদের যে অংশটি মাটির নিচে থাকে এবং গাছকে মাটির সাথে শক্তভাবে ধরে রেখে পুষ্টি ও জল সরবরাহ করে, তাকে মূলতন্ত্র বলে। আর উদ্ভিদের যে অংশ মাটির উপরে থেকে কাণ্ড, পাতা, ফুল এবং ফল ও বীজ ধারণ করে, তাকে বলে বিটপতন্ত্র।
নিচে উদ্ভিদের মূলতন্ত্রের অন্তর্গত মূল এবং বিটপ তন্ত্রের অন্তর্গত কান্ড ও পাতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
মূল
মূল বা শেকড় হলো উদ্ভিদের একটি অপরিহার্য অঙ্গ। এটি সাধারণত মাটির নিচে বৃদ্ধি পায়। উদ্ভিদের যে অংশ ভ্রূণমূল থেকে উৎপন্ন হয়ে আলোর বিপরীত দিকে এবং অভিকর্ষের দিকে অগ্রসর হয়, তাকে মূল বলে।
নিচে মূলের গঠন, কাজ এবং প্রকারভেদ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
◼ মূলের বিভিন্ন অংশ
একটি আদর্শ মূলকে প্রধানত চারটি অঞ্চলে ভাগ করা যায়। ভাগগুলি নিচে আলোচনা করা হল:
1. মূলত্র অঞ্চল:
মূলের একেবারে অগ্রভাগে টুপির মতো একটি অংশ থাকে, এটিকে মূলত্র বলে। এই অংশটি মাটিতে মূল ঢোকার সময় ঘর্ষণ থেকে মূলের নরম অংশকে রক্ষা করে। মূলের এই জয়গাটাকেই বলা হয় মূলত্র অঞ্চল।
● কাজ: মূল যখন মাটির গভীরে প্রবেশ করে, তখন শক্ত মাটির কণার ঘর্ষণ থেকে মূলের নরম ও কোষ বিভাজনক্ষম অংশটিকে রক্ষা করায় মূলত্রের প্রধান কাজ। মূলত্র থেকে এক ধরনের পিচ্ছিল পদার্থ নিঃসৃত হয়, যা মাটিকে কিছুটা নরম করতেও সাহায্য করে। অর্থাৎ মূলত্র অঞ্চল মূলের অন্যান্য অংশ গুলির জন্য সুরক্ষা বর্ম হিসেবে কাজ করে।
● বিশেষত্ব: জলজ উদ্ভিদের মূলে সাধারণত মূলত্র থাকে না। পরিবর্তে তাদের 'মূলথলি' নামে একটি অংশ থাকে।
2. বর্ধনশীল অঞ্চল:
মূলত্র অঞ্চলের ঠিক পেছনের অংশ, যেখানে মূল লম্বায় বৃদ্ধি পায়, সেই অংশটিকে বলে বর্ধনশীল অঞ্চল।
● গঠন: এই অঞ্চলের কোষগুলো পাতলা প্রাচীরযুক্ত হয় এবং ঘন সাইটোপ্লাজম দ্বারা পূর্ণ থাকে।
● কাজ: বর্ধনশীল অঞ্চলের কোষগুলো ক্রমাগত বিভাজিত হয়ে নতুন নতুন কোষ তৈরি করে। এর ফলেই মূল ধীরে ধীরে দৈর্ঘ্যে বৃদ্ধি পায়।
3. মূলরোম অঞ্চল:
বর্ধনশীল অঞ্চলের ঠিক ওপরের যে অংশে অসংখ্য সূক্ষ্ম রোয়া বা রোম থাকে, তাকে মূলরোম অঞ্চল বলে। উদ্ভিদরা এই অংশের সাহায্যেই মাটি থেকে জল ও খনিজ লবণ শোষণ করে।
● কাজ: এটি মূলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মূলরোম অঞ্চলের রোয়া বা রোমগুলো মাটির অতি ক্ষুদ্র কণার ফাঁক থেকে জল ও খনিজ লবণ শোষণ করে।
● গুরুত্ব: মূলরোমগুলো মাটির সাথে সংস্পর্শের ক্ষেত্রফল বাড়িয়ে দেয়, ফলে উদ্ভিদ দ্রুত জল শোষণ করতে পারে।
4. স্থায়ী অঞ্চল:
মূলরোম অঞ্চলের ওপরের যে শক্ত অংশ থেকে শাখা মূল উৎপন্ন হয়, তাকে স্থায়ী অঞ্চল বলে। এই অংশটি উদ্ভিদকে মাটির সাথে আটকে রাখতে সাহায্য করে।
● গঠন: স্থায়ী অঞ্চলের কোষগুলো স্থায়ীভাবে গঠিত এবং এগুলি সাধারণত আর বৃদ্ধি পায় না।
● কাজ: (i) মূলের স্থায়ী অঞ্চল থেকেই শাখা মূল ও প্রশাখা মূল উৎপন্ন হয়। (ii) এটি উদ্ভিদকে মাটির সাথে দৃঢ়ভাবে আটকে রাখে। (iii) শোষিত জল ও খনিজ লবণকে কাণ্ডের দিকে পরিবহণ করা এই অঞ্চলের অন্যতম প্রধান কাজ।
◼ মূলের প্রকারভেদ
উৎপত্তি ও অবস্থান অনুযায়ী মূলকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
1. স্থানিক মূল:
ভ্রূণমূল সরাসরি বৃদ্ধি পেয়ে এই মূল গঠন করে। এতে একটি প্রধান মূল থাকে এবং তা থেকে বের হয় শাখা-প্রশাখা মূল।
● উদাহরণ: আম, জাম, ছোলা ও বিভিন্ন দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের এই মূল দেখা যায়।
2. অস্থানিক মূল:
যখন মূল ভ্রূণমূল থেকে উৎপন্ন না হয়ে কাণ্ড, শাখা বা পাতা থেকে উৎপন্ন হয়, তখন তাকে অস্থানিক মূল বলে। এই মূল সাধারণত দুই ধরণের হয়ে থাকে।
i) গুচ্ছ মূল: কিছু উদ্ভিদের কাণ্ডের গোড়া থেকে একগুচ্ছ সরু মূল বের হয়, এগুলিকে গুচ্ছ মূল বলে। যেমন: ধান, ঘাস, নারকেল ইত্যাদি উদ্ভিদের গুচ্ছ মূল দেখাযায়।
ii) অগুচ্ছ মূল: কিছু উদ্ভিদের কাণ্ড বা পাতা থেকে বিচ্ছিন্নভাবে একপ্রকার মূল বের হয়, এগুলিকে অগুচ্ছ মূল বলে। যেমন: বট গাছের ঝুড়ি মূল, কেয়া গাছের ঠেস মূল ইত্যাদি।
◼ মূলের প্রধান কাজ
উদ্ভিদ দেহে মূল কিছু বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেগুলি হলো:
i) দৃঢ়তা প্রদান: মূল উদ্ভিদকে মাটির সাথে শক্তভাবে আটকে রাখে, যাতে জোরালো হওয়া বা ঝড়-বৃষ্টিতে গাছ সহজে পড়ে না যায়।
ii) শোষণ: মূল মাটি থেকে জল এবং জলে দ্রবীভূত প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান শোষণ করে ওপরের অংশে পাঠিয়ে দেয়।
iii) খাদ্য সঞ্চয়: কিছু কিছু মূল ভবিষ্যতের জন্য খাদ্য সঞ্চয় করে রাখে। যেমন: গাজর, মূলো, মিষ্টি আলু ইত্যাদি।
iv) বিশেষ কাজ: কিছু উদ্ভিদ মূলের সাহায্যে শ্বাসকার্য চালায়। যেমন: সুন্দরী গাছের শ্বাসমূল। আবার কিছু গাছের মূল আরোহণে সাহায্য করে। যেমন: পান গাছের আরোহী মূল।
◼ মূলের রূপান্তর
খাদ্য সঞ্চয়, যান্ত্রিক ভারসাম্য রক্ষা বা শারীরবৃত্তীয় কাজ সম্পন্ন করার জন্য মূলের যে আকৃতিগত পরিবর্তন ঘটে, তাকেই মূলের রূপান্তর বলা হয়। মূলের রূপান্তর সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হল:
1. খাদ্য সঞ্চয়ের জন্য রূপান্তর:
অধিকাংশ দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের প্রধান মূল খাদ্য সঞ্চয় করে স্ফীত ও রসালো হয়। যেমন- গাজর, মূলা, বিট, শালগম ইত্যাদি।
2. যান্ত্রিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য রূপান্তর:
কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু মূল গাছকে সোজা রাখতে বা প্রতিকূল পরিবেশে গাছকে দাঁড়িয়ে থাকতে সাহায্য করে। এই ধরনের মূল আবার বিভিন্ন প্রকার হতে পারে, যেমন:
● ঠেস মূল: কিছু উদ্ভিদের কাণ্ডের নিচ থেকে কতগুলো মূল বের হয়ে মাটির ভেতরে প্রবেশ করে গাছকে ঠেস দিয়ে রাখে, এই ধরনের মূলকে ঠেস মূল বলে। উদাহরণ: কেয়া গাছ।
● ঝুরি মূল: কিছু উদ্ভিদের ক্ষেত্রে বড় বড় শাখা থেকে মূল বের হয়ে খাড়াভাবে মাটিতে প্রবেশ করে স্তম্ভের মতো আকার ধারণ করে, এগুলি ঝুরি মূল বা স্তম্ভ মূল বলে। উদাহরণ: বট গাছ।
● আরোহী মূল: কিছু দুর্বল কাণ্ডযুক্ত উদ্ভিদের ক্ষেত্রে এক প্রকার মূল কোনো অবলম্বনকে আঁকড়ে ধরে উপরে উঠতে সাহায্য করে, এই ধরনের মূলকে আরোহী মূল বলে। উদাহরণ: পান, গোলমরিচ ইত্যাদি।
3. শারীরবৃত্তীয় কাজ সম্পাদনের জন্য রূপান্তর:
কিছু কিছু উদ্ভিদের বিশেষ কিছু শারীরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে মূলের রূপান্তর ঘটে। যেমন:
● শ্বাস মূল: লবণাক্ত মাটিতে অক্সিজেনের অভাব মেটাতে কিছু উদ্ভিদের মূল মাটি ফুঁড়ে উপরে উঠে আসে। এই মূল গুলির গায়ে ছোট ছোট ছিদ্র থাকে যা দিয়ে এরা বাতাস থেকে অক্সিজেন নেয়। উদাহরণ: সুন্দরী, গরান ইত্যাদি ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ।
● পরজীবী বা শোষক মূল: কিছু উদ্ভিদ ক্লোরোফিলবিহীন হওয়ায় নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না। তাই তারা খাদ্যের জন্য অন্য আশ্রয়দাতা গাছের দেহে তাদের মূল প্রবেশ করিয়ে পুষ্টি রস শোষণ করে। উদাহরণ: স্বর্ণলতা।
কাণ্ড
উদ্ভিদের কাণ্ড হলো বিটপতন্ত্রের প্রধান অক্ষ। ভ্রূণমুকুল থেকে উৎপন্ন হয়ে কাণ্ড সাধারণত মাটির উপরে আলোর দিকে বৃদ্ধি পায়। কাণ্ডের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এতে পর্ব, মধ্যপর্ব এবং মুকুল থাকে।
অর্থাৎ, উদ্ভিদের যে অংশটি সাধারণত মাটির উপরে বৃদ্ধি পায় এবং শাখা-প্রশাখা, পাতা, ফুল ও ফল ধারণ করে, তাকে কাণ্ড বলে।
নিচে কাণ্ডের গঠন, কাজ এবং প্রকারভেদ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
◼ কাণ্ডের বিভিন্ন অংশ
একটি আদর্শ কাণ্ডের প্রধান অংশগুলো হলো:
1. পর্ব:
কাণ্ডের যে নির্দিষ্ট স্থান থেকে পাতা, শাখা-প্রশাখা বা ফুল উৎপন্ন হয়, তাকে পর্ব বলে।
● কাজ: এটি উদ্ভিদের বৃদ্ধি এবং নতুন অঙ্গ তৈরির প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
● চেনার উপায়: বাঁশ বা আখ গাছের কাণ্ডে যে গিঁটগুলো দেখা যায়, সেগুলোই হলো পর্ব।
2. মধ্যপর্ব:
পাশাপাশি অবস্থিত দুটি পর্বের মধ্যবর্তী অংশটিকে পর্বমধ্য বলা হয়।
● কাজ: পর্বমধ্য গাছকে লম্বায় বড় হতে সাহায্য করে এবং কাণ্ডকে দৃঢ়তা প্রদান করে।
● বৈশিষ্ট্য: পর্বমধ্য থেকে কোনো ধরনের পাতা, শাখা বা মূল উৎপন্ন হয় না। দুটি পর্বের দূরত্ব যত বেশি হয়, গাছ তত দ্রুত লম্বা দেখায়।
3. মুকুল:
কাণ্ডের অগ্রভাগে বা পাতার কক্ষে যে অপরিণত ক্ষুদ্র অংশ দেখা যায়, যা থেকে পরে শাখা বা ফুল জন্মে, তাকে মুকুল বলে। অবস্থানের ভিত্তিতে এটি দুই প্রকার:
i) অগ্রমুকুল: এটি কাণ্ডের একেবারে মাথায় থাকে। এর মাধ্যমেই কাণ্ড ওপরের দিকে বৃদ্ধি পায়।
ii) কক্ষিক মুকুল: এটি পাতা ও কাণ্ডের মধ্যবর্তী কোণে অর্থাৎ কক্ষে জন্মায়। এখান থেকে সাধারণত শাখা বা ফুল তৈরি হয়।
4. কক্ষ:
কাণ্ড বা শাখার সাথে পাতা যেখানে যুক্ত থাকে, সেখানে যে কোণ তৈরি হয়, তাকে কক্ষ বলা হয়।
● গুরুত্ব: কক্ষ থেকেই কক্ষিক মুকুলের উৎপত্তি ঘটে।
◼ কাণ্ডের প্রকারভেদ
কাণ্ডের স্থায়িত্ব এবং গঠন অনুযায়ী কাণ্ডকে প্রধান দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
1. সবল কাণ্ড:
এই কাণ্ডগুলো শক্ত হয় এবং এর মাধ্যমে গাছ খাড়াভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে। সবল কাণ্ড গুলিকে আবার দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন-
i) অশাখ কাণ্ড: যে কাণ্ডে কোনো শাখা থাকে না, মাথায় শুধুমাত্র পাতার মুকুট থাকে, সেগুলিকে অশাখ কাণ্ড বলে। যেমন: নারকেল, তাল ইত্যাদি।
ii) শাখান্বিত কাণ্ড: যে কাণ্ড থেকে অনেক শাখা-প্রশাখা বের হয়, তাকে শাখান্বিত কাণ্ড বলে। যেমন: আম, কাঁঠাল ইত্যাদি।
2. দুর্বল কাণ্ড:
এই কাণ্ড গুলি নরম হয় এবং এর মাধ্যমে গাছ খাড়াভাবে দাঁড়াতে পারে না। এগুলি কে আবার দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন-
i) লতানো কাণ্ড: যে কাণ্ড গুলি মাটির ওপর দিয়ে সমান্তরালভাবে বৃদ্ধি পায়, সেগুলিকে লতানো কাণ্ড বলে। যেমন: দুর্বা ঘাস।
ii) আরোহী কাণ্ড: যে কাণ্ড গুলি অন্য কোনো কিছুকে আঁকড়ে ধরে গাছকে ওপরে উঠতে সাহায্য করে, তাকে আরোহী কাণ্ড বলে। যেমন: পান, মটরশুঁটি ইত্যাদি।
◼ কাণ্ডের প্রধান কাজ
উদ্ভিদের অস্তিত্ব রক্ষায় কাণ্ড যেসব বহুমুখী ভূমিকা পালন করে, সেগুলি হলো:
i) ভার বহন: পাতা, ফুল ও ফলের ভার বহন করা এবং সেগুলিকে আলোর দিকে ছড়িয়ে রাখা কাণ্ডের অন্যতম প্রধান কাজ।
ii) পরিবহন: কাণ্ডের মাধ্যমেই মূল দ্বারা শোষিত জল ও খনিজ লবণ পাতায় পৌঁছে যায় এবং পাতায় তৈরি খাদ্য উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে যায়।
iii) খাদ্য উৎপাদন: কচি অবস্থায় কাণ্ড সবুজ থাকে, তাই সেইসময় এটি সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সামান্য খাদ্য তৈরি করতে পারে।
iv) সুরক্ষা: কিছু উদ্ভিদের কাণ্ডে কাঁটা থাকে যা প্রাণীদের আক্রমণ থেকে গাছকে সুরক্ষা প্রদান করে।
◼ কাণ্ডের রূপান্তর
বিশেষ কাজের জন্য অনেক সময় কাণ্ডের আকৃতি পরিবর্তিত বা রূপান্তরিত হয়। অবস্থান অনুযায়ী কাণ্ডের রূপান্তরকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। কাণ্ডের রূপান্তরের তিনটি ভাগ নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হল:
1. ভূ-নিম্নস্থ রূপান্তরিত কাণ্ড:
প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার জন্য এবং খাদ্য সঞ্চয়ের জন্য কিছু উদ্ভিদের কাণ্ড মাটির নিচে অবস্থান করে। এদের গায়ে পর্ব, পর্বমধ্য ও শল্কপত্র থাকে। এই ধরনের কান্ড গুলিকে আরবার বেশ কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে, যেমন:
i) স্ফীত কন্দ: এই প্রকার কাণ্ডটি খাদ্য সঞ্চয়ের জন্য গোলাকার ও স্ফীত হয়। এর গায়ে ছোট ছোট গর্ত বা 'চোখ' থাকে, যেখান থেকে নতুন চারাগাছ জন্মাতে পারে। উদাহরণ: গোল আলু।
ii) রাইজোম: এই প্রকার কাণ্ড মাটির নিচে সমান্তরালভাবে অবস্থান করে এবং খাদ্য সঞ্চয়ের জন্য আকৃতিতে মোটা হয়। এদের পর্ব ও পর্বমধ্য বেশ স্পষ্ট হয়। উদাহরণ: আদা, হলুদ।
iii) কন্দ: এই কাণ্ডগুলো যথেষ্ট ছোট এবং দেখতে চাকতির মতো হয়। এদের ওপরের শল্কপত্রগুলো রসালো হয়। উদাহরণ: পেঁয়াজ, রসুন।
iv) গুড়িকন্দ: এই প্রকার কাণ্ডগুলো মাটির নিচে খাড়াভাবে বৃদ্ধি পায় এবং আকৃতিতে বেশ বড় ও গোল হয়। উদাহরণ: ওলকচু।
2. অর্ধ-বায়বীয় রূপান্তরিত কাণ্ড
নরম কাণ্ডযুক্ত উদ্ভিদদের বংশবৃদ্ধির জন্য কাণ্ডের এই ধরনের রূপান্তর দেখা যায়। এই ধরনের কাণ্ডের কিছু অংশ মাটিতে আর কিছু অংশ বায়ুতে থাকে। তাই এদের অর্ধ-বায়বীয় রূপান্তরিত কাণ্ড বলে। যেমন:
i) ধাবক: এই প্রকারের কাণ্ড মাটির ওপর দিয়ে সমান্তরালভাবে লতিয়ে চলে এবং এর পর্ব থেকে মূল বের হয়। উদাহরণ: থানকুনি, দুব্বা ঘাস।
ii) বক্র ধাবক: এই প্রকারের কাণ্ডটি প্রথমে খানিকটা ওপরে ওঠে এবং পরে ধনুকের মতো বেঁকে মাটিতে নামে। উদাহরণ: কচু, পুদিনা।
iii) অফসেট: এটি জলজ উদ্ভিদদের ক্ষেত্রে দেখা যায়। এদের পর্বমধ্যগুলো ছোট ও মোটা হয়, ফলে গাছটি খর্বাকৃতি দেখায়। উদাহরণ: কচুরিপানা, টোপাপানা।
iv) ঊর্ধ্বধাবক: এই প্রকার কাণ্ডটি মাটির নিচ থেকে ওপরের দিকে তেরছাভাবে বেরিয়ে আসে। উদাহরণ: চন্দ্রমল্লিকা, বাঁশ।
3. বায়বীয় রূপান্তরিত কাণ্ড
বিশেষ প্রয়োজনে কিছু উদ্ভিদের কাণ্ড মাটির ওপরে পুরোপুরি পরিবর্তিত হয়ে যায়। এই ধরনের রূপান্তর ঘটলে তাকে বায়বীয় রূপান্তরিত কাণ্ড। যেমন:
i) পর্ণকাণ্ড: মরুভূমি অঞ্চলের কিছু উদ্ভিদদের কাণ্ড পাতার মতো চ্যাপ্টা ও সবুজ রঙের হয়। এগুলি পাতার মতোই সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়া চালাতে সক্ষম। এটিতে জলও সঞ্চিত থাকে। উদাহরণ: ফনীমনসা।
ii) শাখা আকর্ষী: এই প্রকার কাণ্ড অত্যন্ত দুর্বল হওয়ায় আরোহণের জন্য সুতার মতো কুণ্ডলী পাকিয়ে কোনো অবলম্বনকে আঁকড়ে ধরে। উদাহরণ: ঝুমকো লতা, হাড়জোড়া।
iii) শাখা কণ্টক: আত্মরক্ষার জন্য কিছু উদ্ভিদের কান্ড অনেক সময় শক্ত ও তীক্ষ্ণ কাঁটায় পরিণত হয়। এগুলিকে শাখা কণ্টক বলে। উদাহরণ: বেল, লেবু, মেহেদি।
iv) বুলবিল: কিছু উদ্ভিদের ক্ষেত্রে অনেক সময় কক্ষিক মুকুল খাদ্য সঞ্চয় করে গোল পিণ্ডের মতো আকার ধারণ করে। পরে এগুলি মাটিতে পড়ে নতুন চারা জন্মায়। এগুলিকে বুলবিল বলে। উদাহরণ: চুপড়ি আলু।
পাতা
উদ্ভিদের পাতা হলো কাণ্ড বা শাখা-প্রশাখার পর্ব থেকে উৎপন্ন পার্শ্বীয়, চ্যাপ্টা এবং সাধারণত সবুজ রঙের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। পাতার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটি ক্লোরোফিলযুক্ত এবং উদ্ভিদের প্রধান সালোকসংশ্লেষণকারী অঙ্গ হিসেবে কাজ করে।
নিচে পাতার গঠন, কাজ এবং প্রকারভেদ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
◼ আদর্শ পাতার বিভিন্ন অংশ
একটি আদর্শ পাতার প্রধানত তিনটি অংশ থাকে। এগুলি হলো:
1. পত্রমূল:
পাতার একদম নিচের যে অংশটি কাণ্ড বা শাখার পর্বের সাথে যুক্ত থাকে, তাকে পত্রমূল বলে।
● বৈশিষ্ট্য: এটি পাতার সর্বনিম্ন অংশ। কিছু গাছের পত্রমূল স্ফীত বা ফোলা হয়। যেমন: শিম, লজ্জাবতী ইত্যাদি।
● কাজ: পাতাকে কাণ্ডের সাথে দৃঢ়ভাবে আটকে রাখা এবং কাণ্ড থেকে জল ও খনিজ লবণ পাতায় পৌঁছে দেওয়া।
2. পত্রবৃন্ত বা বোঁটা:
পত্রমূল এবং চ্যাপ্টা সবুজ ফলকের মধ্যবর্তী সরু দণ্ডাকার অংশটিকে পত্রবৃন্ত বলে।
● বৈশিষ্ট্য: এটি নমনীয় হয় যাতে বাতাসের চাপে পাতা ভেঙে না গিয়ে সহজেই বাতাসের সাথে নড়াচড়া করতে পারে। যেসব পাতার বোঁটা থাকে তাদের বলে সবৃন্তক। যেমন: আম, জবা ইত্যাদি। এবং যাদের পাতার বোঁটা থাকে না তাদের বলে অবৃন্তক। যেমন: শেয়ালকাঁটা পাতা।
● কাজ: পত্রবৃন্তগুলি পত্রফলক গুলিকে এমনভাবে ধরে রাখা যাতে সেটি পর্যাপ্ত সূর্যালোক পেতে পারে এবং কাণ্ড থেকে পাতায় যেন জল সরবরাহ বজায় থাকে।
3. পত্রফলক:
বৃন্তের উপরে অবস্থিত পাতার চ্যাপ্টা, প্রসারিত এবং সবুজ অংশটিই হলো পত্রফলক। এটি পাতার প্রধান অংশ।
● বৈশিষ্ট্য: এটি সাধারণত পাতলা এবং সবুজ রঙের হয়। এর মাঝখান বরাবর একটি মোটা শিরা অবস্থান করে, যাকে মধ্যশিরা বলে। মধ্যশিরা থেকে অনেক শিরা ও উপশিরা বেরিয়ে জালের মতো ছড়িয়ে থাকে।
● কাজ:
- খাদ্য তৈরি: ক্লোরোফিলের সাহায্যে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করা।
- বাষ্পমোচন: পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে শরীরের অতিরিক্ত জল বাইরে বের করে দেওয়া।
- গ্যাসীয় বিনিময়: শ্বাসকার্যের জন্য অক্সিজেন নেওয়া এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করা।
◼ পাতার প্রকারভেদ
পত্র ফলকের গঠন অনুযায়ী পাতাকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। এগুলি হলো:
2. সরলপত্র
যখন কোনো পাতার পত্রফলকটি একটিমাত্র খণ্ড দিয়ে গঠিত হয় এবং কিনারা অখণ্ডিত থাকে অথবা খণ্ডিত হলেও তা মধ্যশিরা পর্যন্ত পৌঁছায় না, তাকে সরলপত্র বলে।
● বৈশিষ্ট্য: i) সরলপত্রে একটিমাত্র পত্রফলক থাকে। ii)এর কক্ষে একটিমাত্র কক্ষমুকুল থাকে।
● উদাহরণ: সরলপত্রের উদাহরণ হল আম, জাম, জবা, বট ইত্যাদি।
1. যৌগিকপত্র
যখন একটি পাতার পত্রফলকটি সম্পূর্ণভাবে খণ্ডিত হয়ে কতগুলি ছোট ছোট স্বতন্ত্র পত্রক তৈরি করে, তখন তাকে যৌগিকপত্র বলে।
● বৈশিষ্ট্য: i) যৌগিক পত্রে একটি মাত্র বড় ফলকের পরিবর্তে অনেকগুলো ছোট ছোট পত্রক থাকে। ii) এই পত্রের গোড়ায় কক্ষমুকুল থাকে, তবে প্রতিটি পত্রকের গোড়ায় কোনো মুকুল থাকে না। iii) এটিতে একটা সাধারণ দণ্ড বা অক্ষের ওপর পত্রকগুলো সাজানো থাকে, একে র্যাকিস বা পত্রাক্ষ বলে।
● উদাহরণ: যৌগিক পত্রের উদাহরণ হল নিম, তেঁতুল, গোলাপ, সজনে ইত্যাদি।
◼ পাতার প্রধান কাজ
উদ্ভিদের পাতার প্রধান কাজগুলো হলো:
i) সালোকসংশ্লেষণ: পাতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করা। পাতায় ক্লোরোফিলের উপস্থিতিতে সূর্যালোকের সাহায্যে বায়ুমণ্ডলের কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং মূল দ্বারা শোষিত জল থেকে শর্করা জাতীয় খাদ্য উৎপন্ন হয়।
ii) প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন: উদ্ভিদ মূলের সাহায্যে যে পরিমাণ জল শোষণ করে, তার সবটা নিজের কাজে লাগে না। তাই প্রয়োজনের অতিরিক্ত জল পাতার পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে বাষ্প আকারে বাইরে বের করে দেয়। এই প্রক্রিয়াকে প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন বলে। এই প্রক্রিয়ার ফলে উদ্ভিদের দেহে জলের ভারসাম্য বজায় থাকে এবং পাতায় এক প্রকার চোষন টানের সৃষ্টি হয়, যা মাটির গভীর থেকে জল ও খনিজ লবণ উপরে তুলতে সাহায্য করে। এছাড়া এটি গাছকে শীতল রাখতে সাহায্য করে।
iii) গ্যাসীয় আদান-প্রদান: পাতার ত্বকে অবস্থিত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্র বা পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে উদ্ভিদ পরিবেশের সাথে গ্যাসের আদান-প্রদান করে থাকে। শ্বাসকার্যের জন্য অক্সিজেন গ্রহণ এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করা পাতার মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়। আবার, সালোকসংশ্লেষণের জন্য বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ এবং অক্সিজেন ত্যাগ করা সেটিও পাতার মাধ্যমে ঘটে।
iv) খাদ্য সঞ্চয়: কিছু কিছু উদ্ভিদের পাতা ভবিষ্যতের জন্য খাদ্য ও জল সঞ্চয় করে রাখে। যেমন, অ্যালোভেরা, পাথরকুচি ইত্যাদি উদ্ভিদের রসালো পাতা খাদ্য ও জল সঞ্চয় করে রাখার ফলে মোটা ও মাংসল হয়।
v) আত্মরক্ষা: কিছু উদ্ভিদের পাতা আত্মরক্ষার জন্য বিশেষ রূপ ধারণ করে। যেমন- তৃণভোজী প্রাণীদের হাত থেকে নিজেদেরকে রক্ষার জন্য ফণীমনসা, লেবু ইত্যাদি কিছু কাঁটা জাতীয় গাছের পাতা কাঁটায় রূপান্তরিত হয়।
vi) বংশবিস্তার: কিছু উদ্ভিদ পাতার মাধ্যমে নতুন চারাগাছ সৃষ্টি করতে পারে। যেমন- পাথরকুচি গাছের পাতার কিনারা থেকে নতুন মুকুল জন্মায়, যা মাটিতে পড়ে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি করে।
◼ পাতার রূপান্তর
উদ্ভিদ যখন বিশেষ কোনো পরিবেশিক প্রয়োজন মেটাতে বা নির্দিষ্ট কোনো কাজ সম্পন্ন করতে নিজের স্বাভাবিক পাতার গঠন পরিবর্তন করে ফেলে, তাকেই পাতার রূপান্তর বলা হয়।
নিচে পাতার বিভিন্ন প্রকার রূপান্তর, তাদের উদাহরণ ও উদ্দেশ্য বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
1. পত্রকণ্টক:
মরুভূমি বা শুষ্ক অঞ্চলের উদ্ভিদদের পাতা অনেক সময় সরু ও তীক্ষ্ণ কাঁটায় রূপান্তরিত হয়, এগুলিকে পত্রকণ্টক বলে।
● উদ্দেশ্য: বাষ্পমোচন বা প্রস্বেদন রোধ করে দেহে জল সঞ্চয় করা এবং তৃণভোজী প্রাণীদের হাত থেকে আত্মরক্ষা করা।
● উদাহরণ: ফণীমনসা, লেবু ইত্যাদি।
2. পত্রআকর্ষ:
দুর্বল কাণ্ডের উদ্ভিদদের সম্পূর্ণ পাতা অথবা পাতার কোনো অংশ সরু ও কুণ্ডলী পাকানো সুতোর মতো অঙ্গে পরিণত হয়, এগুলিকে পত্র আকর্ষ বলে।
● উদ্দেশ্য: কোনো শক্ত অবলম্বনকে জড়িয়ে ধরে গাছকে উপরের দিকে উঠতে সাহায্য করা।
● উদাহরণ: মটর গাছ, বুনো মটর ইত্যাদি।
3. সঞ্চয়ী পত্র:
কিছু উদ্ভিদ প্রতিকূল সময়ের জন্য খাদ্য ও জল সঞ্চয় করার ফলে পাতাগুলি বেশ মোটা, রসালো ও মাংসল হয়ে যায়, এগুলিকে বলে সঞ্চয়ী পাতা।
● উদ্দেশ্য: জল ও পুষ্টি উপাদান জমিয়ে রাখা।
● উদাহরণ: ঘৃতকুমারী, পাথরকুচি, পেঁয়াজের শল্কপত্র ইত্যাদি।
4. কলসপত্র:
যেসব মাটিতে নাইট্রোজেনের অভাব থাকে, সেখানকার কিছু উদ্ভিদের পাতা পতঙ্গ ধরার জন্য কলসি বা থলির মতো আকার ধারণ করে, এগুলিকে কলসপত্র বলে।
● উদ্দেশ্য: পতঙ্গ শিকার করে নিজের দেহের নাইট্রোজেনের চাহিদা পূরণ করা।
● উদাহরণ: কলশপত্রী, সূর্যশিশির ইত্যাদি।
5. প্রজননক্ষম পত্র:
কিছু উদ্ভিদের পাতার কিনারায় ছোট ছোট মুকুল জন্মায়, যা থেকে সরাসরি নতুন চারা তৈরি হতে পারে।
● উদ্দেশ্য: অঙ্গজ জনন বা বংশবিস্তারে সাহায্য করা।
● উদাহরণ: পাথরকুচি।
6. শল্কপত্র:
মাটির নিচে থাকা কাণ্ড বা মুকুলকে রক্ষা করার জন্য কিছু উদ্ভিদের পাতাগুলি পাতলা, শুকনো এবং বাদামী রঙের আবরণের মতো হয়ে যায়, এগুলিকে শল্কপত্র বলে।
● উদ্দেশ্য: ভেতরের নরম অংশ বা মুকুলকে রক্ষা করা।
● উদাহরণ: আদা, হলুদ, পেঁয়াজ ইত্যাদি।
◼ পাতার শিরাবিন্যাস
পত্রফলকের মধ্যে শিরা এবং উপশিরাগুলি যেভাবে বিন্যস্ত বা সাজানো থাকে, তাকেই শিরাবিন্যাস বলা হয়। শিরা ও উপশিরাগুলি পাতায় জলের সংবহন ঘটায় এবং পাতার কাঠামোকে দৃঢ়তা প্রদান করে।
গঠন অনুযায়ী শিরাবিন্যাসকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়, যথা- জালিকাকার শিরাবিন্যাস এবং সমান্তরাল শিরাবিন্যাস।
1. জালিকাকার শিরাবিন্যাস:
যে পাতার শিরা ও উপশিরাগুলি পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে একটি জালের মতো গঠন তৈরি করে, তাকে জালিকাকার শিরাবিন্যাস বলে।
● বৈশিষ্ট্য: i) একটি স্পষ্ট মধ্যশিরা থাকে যা থেকে শাখা শিরা বের হয়। ii) শাখা শিরাগুলি আবার উপশিরায় বিভক্ত হয়ে জালের সৃষ্টি করে। iii) এটি সাধারণত দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
● উদাহরণ: আম, জাম, জবা, বট, কাঁঠাল ইত্যাদি।
2. সমান্তরাল শিরাবিন্যাস:
যে পাতার শিরাগুলি মধ্যশিরার সমান্তরালে বা একে অপরের সমান্তরালে অবস্থান করে এবং কোনো জালের মতো গঠন তৈরি করে না, তাকে সমান্তরাল শিরাবিন্যাস বলে।
● বৈশিষ্ট্য: i) শিরাগুলি সাধারণত পাতার গোড়া থেকে অগ্রভাগ পর্যন্ত সমান্তরালভাবে চলে। ii) এদের মধ্যে সংযোগকারী উপশিরা খুব একটা দেখা যায় না। iii) এটি সাধারণত একবীজপত্রী উদ্ভিদের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
● উদাহরণ: ধান, গম, বাঁশ, কলা, নারকেল, ঘাস ইত্যাদি।