প্রাচীন ভারতের ইতিহাসে নন্দ বংশের উত্থান ও শাসনকাল একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতকে (আনুমানিক ৩৪৩-৩২১ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) মগধকে কেন্দ্র করে এই রাজবংশ পরিচালিত হয়েছিল। হরষঙ্ক ও শিশুনাগ বংশের পর নন্দ বংশই ভারতের বুকে প্রথম এক বিশাল সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করে, যা পরবর্তীকালে মৌর্য সাম্রাজ্যের পথ প্রশস্ত করেছিল।
নিচে নন্দ বংশের সম্পূর্ণ ইতিহাস বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:
মহাপদ্ম নন্দ
প্রাচীন ভারতের অন্যতম শক্তিশালী ও প্রভাবশালী সম্রাট মহাপদ্ম নন্দ। তিনি ছিলেন নন্দ বংশের প্রতিষ্ঠাতা। মগধকে উত্তর ভারতের সর্বশক্তিমান সাম্রাজ্যে পরিণত করার ক্ষেত্রে তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। অনেক ইতিহাসবিদ, বিশেষ করে ড. হেমচন্দ্র রায়চৌধুরী, তাঁকে "ভারতের প্রথম ঐতিহাসিক সাম্রাজ্য নির্মাতা" হিসেবে অভিহিত করেছেন। নিচে মহাপদ্ম নন্দের শাসনকালের ইতিহাস বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করা হলো:
◼ জন্ম ও পরিচয়
মহাপদ্ম নন্দের সামাজিক পরিচয় নিয়ে প্রাচীন গ্রন্থগুলোতে ভিন্ন ভিন্ন মত পাওয়া যায়। নির্ভরযোগ্য সমসাময়িক তথ্যের অভাবে তাঁর জন্মপরিচয় আজও বিতর্কিত। তবে বেশিরভাগ উৎস থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে তিনি তৎকালীন উচ্চবর্ণের বা ক্ষত্রিয় বংশীয় ছিলেন না।
● পুরাণ অনুসারে: তিনি ছিলেন শিশুনাগ বংশের শেষ রাজা মহানন্দিনের শূদ্র গর্ভজাত সন্তান। অর্থাৎ, এর থেকে বোঝা যায় তিনি ছিলেন একজন অব্রাহ্মণ ও অশূদ্র পিতা-মাতার সন্তান।
● জৈন ঐতিহ্য (পরিশিষ্টপার্বণ) অনুসারে: তিনি ছিলেন একজন নাপিতের পুত্র এবং তাঁর মাতা ছিলেন একজন গণিকা।
● গ্রিক বিবরণ: গ্রিক ঐতিহাসিকদের মতে, মহাপদ্ম নন্দের পিতা ছিলেন একজন সাধারণ নাপিত। তিনি ক্ষমতা দখলের উদ্দেশ্যে রাজদরবারে বিশেষ প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। পরবর্তীতে রাজা কাকবর্ণ বা কালাশোককে প্রতারণার মাধ্যমে হত্যা করে তিনি ক্ষমতা দখল করেন।
◼ মহাপদ্ম নন্দের উপাধিসমূহ
মহাপদ্ম নন্দের সামরিক সাফল্য ও অসামান্য বীরত্ব কারণে বিভিন্ন গ্রন্থে তাঁকে নানা উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে।
● উগ্রসেন: 'মহাবংশ' বৌদ্ধ গ্রন্থে তাঁকে 'উগ্রসেন' বলা হয়েছে। 'উগ্রসেন' কথার অর্থ হল "এক বিশাল বা ভয়ঙ্কর সেনাবাহিনীর অধিপতি"।
● সর্বক্ষত্রিয়ান্তক: পুরাণ মতে, উত্তর ভারতের বহু প্রাচীন ক্ষত্রিয় রাজবংশগুলিকে মহাপদ্ম নন্দ সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করেছিলেন। তাই তাঁকে "সমস্ত ক্ষত্রিয়দের বিনাশকারী" হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
● দ্বিতীয় পরশুরাম: হিন্দু পৌরাণিক চরিত্র পরশুরাম যেভাবে পৃথিবীকে ক্ষত্রিয়শূন্য করেছিলেন, মহাপদ্ম নন্দও একইভাবে উত্তর ভারতের ক্ষত্রিয় রাজাদের সমূলে বিনাশ করেছিলেন। তাই পুরাণে তাঁকে 'দ্বিতীয় পরশুরাম' বা পরশুরামের অবতার বলা হয়েছে।
● একরাট বা সম্রাট: উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল একক শাসনের অধীনে আনতে সক্ষম হওয়ায় তিনি 'একরাট' বা 'একচ্ছত্র সম্রাট' নামে পরিচিত হন।
◼ সাম্রাজ্য বিস্তার
মহাপদ্ম নন্দ মগধের চারপাশের স্বাধীন রাজ্যগুলোকে জয় করে মগধকে একটি বিশাল সাম্রাজ্যে পরিণত করেন। তার সাম্রাজ্য বিস্তারের উল্লেখযোগ্য অবদান গুলি হল:
● উত্তর ও মধ্য ভারত জয়: তিনি গঙ্গা উপত্যকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল নিজের অধীনে আনেন। এর ফলে তাঁর সাম্রাজ্য পশ্চিমে পাঞ্জাবের সীমান্ত থেকে শুরু করে পূর্বে বঙ্গদেশ এবং দক্ষিণে বিন্ধ্য পর্বতমালা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
● কলিঙ্গ জয়: মহাপদ্ম নন্দের একটি অন্যতম প্রধান সামরিক সাফল্য ছিল কলিঙ্গ জয়। খ্রিষ্টপূর্ব প্রথম শতকের কলিঙ্গরাজ খারবেলের বিখ্যাত 'হাথিগুম্ফা লিপি' থেকে জানা যায় যে,
নন্দরাজ কলিঙ্গ জয় করে সেখান থেকে একটি পবিত্র জৈন তীর্থঙ্করের মূর্তি মগধে নিয়ে আসেন। এছাড়া কলিঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা জয়ের পর তিনি সেখানে সেচকার্যের জন্য একটি খাল খনন করেছিলেন।
◼ শাসনব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক সংস্কার
মহাপদ্ম নন্দ সামরিক বিজয় লাভের সঙ্গে সঙ্গে একজন দূরদর্শী প্রশাসক হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তার শাসনব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য বিষয় গুলি হল:
● কেন্দ্রীভূত শাসন: তিনি প্রাচীন ভারতের ছোট ছোট স্বাধীন রাজ্য বা 'গণরাজ্য' গুলোর পতন ঘটিয়ে একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থার ভিত তৈরি করেন।
● কোষাগার ও কর ব্যবস্থা: মহাপদ্ম নন্দ সাম্রাজ্যের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে মজবুত করতে এক সুশৃঙ্খল কর ব্যবস্থা চালু করেন। গঙ্গা নদীর বাণিজ্যিক জলপথ সম্পূর্ণ তাঁর নিয়ন্ত্রণে থাকায় মগধের কোষাগার অভূতপূর্ব ধনসম্পদে ভরে ওঠে। তাঁর এই সঞ্চিত অর্থই পরবর্তীকালে মৌর্য সাম্রাজ্যের বিশাল সামরিক ব্যয়ভার বহনে প্রধান ভূমিকা রেখেছিল।
◼ মহাপদ্ম নন্দের উত্তরাধিকার
বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, মহাপদ্ম নন্দ প্রায় ৪০ বছর দক্ষতার সাথে শাসনকার্য পরিচালনা করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর আট পুত্র মগধের শাসনভার গ্রহণ করেন। এই আট পুত্রের অধিকাংশের শাসনকাল, কৃতিত্ব বা প্রশাসনিক কার্যকলাপ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায় না। সম্ভবত তাঁরা ধারাবাহিকভাবে স্বল্প সময়ের জন্য মগধ শাসন করেছিলেন। এঁদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ ও শেষ সম্রাট ছিলেন ধন নন্দ।
পুরাণ অনুসারে, মহাপদ্ম নন্দের পরবর্তী শাসকদের নাম হল পাণ্ডুক পাণ্ডুগতি, ভূতপাল, রাষ্ট্রপাল, গোবিশাণক, দশসিদ্ধক, কৈবর্ত ও ধন নন্দ। তবে এক্ষেত্রে বিভিন্ন পূরণে পাণ্ডুলিপিভেদে বানান ও ক্রমে পার্থক্য রয়েছে। এছাড়া এই নামগুলির সত্যতা সম্পর্কে ঐতিহাসিকরা সম্পূর্ণ একমত নয়। ঐতিহাসিকদের কাছে নিশ্চিতভাবে কেবল মহাপদ্ম নন্দ ও ধন নন্দ সম্পর্কে তুলনামূলকভাবে বেশি নির্ভরযোগ্য তথ্য রয়েছে।
ধন নন্দ
ধন নন্দ ছিলেন প্রাচীন ভারতের নন্দ বংশের নবম তথা শেষ সম্রাট। তিনি তাঁর পিতা মহাপদ্ম নন্দের প্রতিষ্ঠিত বিশাল সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী হিসেবে মগধের সিংহাসনে আরোহণ করেন। প্রাচীন ভারতীয় সাহিত্য, বৌদ্ধ ও জৈন গ্রন্থ এবং গ্রিক ঐতিহাসিকদের বিবরণে তাঁর বিপুল ধনসম্পদ, বিশাল সামরিক শক্তি এবং কঠোর কর নীতির উল্লেখ পাওয়া যায়।
নিচে সম্রাট ধন নন্দ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক তথ্য আলোচনা করা হলো।
◼ নাম ও পরিচয়
● বৌদ্ধ গ্রন্থ: বৌদ্ধ গ্রন্থ 'মহাবংশ' অনুসারে তাঁর নাম ছিল ধন নন্দ। মনে করা হয়, তিনি বিপুল পরিমাণ সম্পদের অধিকারী ছিলেন এবং রাজকোষকে অত্যন্ত সমৃদ্ধ করেছিলেন বলে তাঁর এরূপ নামকরন হয়।
● গ্রিক বিবরণী: গ্রিক ঐতিহাসিকদের রচনায় তাঁকে 'আগ্রামেস' বা 'জ্যান্ড্রামেস' নামে উল্লেখ করা হয়েছে। অধিকাংশ ইতিহাসবিদের মতে, এই নামগুলো সম্ভবত সংস্কৃত 'ঔগ্রসৈন্য' বা 'উগ্রসেনের পুত্র' শব্দের গ্রিক রূপান্তর।
◼ সামরিক শক্তি
গ্রিক ঐতিহাসিক ডিওডোরাস এবং প্লুতার্কের বিবরণ অনুযায়ী ধন নন্দের চতুরঙ্গ সেনাবাহিনীতে নিযুক্ত ছিল:
- পদাতিক বাহিনী: প্রায় ২,০০,০০০ সৈন্য
- অশ্বারোহী বাহিনী: প্রায় ৮০,০০০ অশ্বারোহী
- যুদ্ধরথ: প্রায় ৮,০০০ টি রথ
- হস্তীবাহিনী: প্রায় ৬,০০০ প্রশিক্ষিত যুদ্ধহস্তী
◼ আলেকজান্ডারের ভারত আক্রমণ
ধন নন্দের শাসনকালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল ৩২৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে গ্রিক বীর আলেকজান্ডারের ভারত আক্রমণ। আলেকজান্ডার যখন পাঞ্জাব পর্যন্ত পৌঁছে যান, তখন তিনি জানতে পারেন যে গঙ্গা নদীর ওপারে মগধের নন্দ সম্রাট এক বিশাল সামরিক বাহিনী নিয়ে অপেক্ষা করছেন। আলেকজান্ডারের সৈন্যরা ইতিমধ্যে পুরু রাজার অল্প কিছু হাতির মুখোমুখি হয়েই চরম ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছিল। এমন অবস্থায় আলেকজান্ডারের সৈন্যরা দীর্ঘ যুদ্ধ, ক্লান্তি, ঘন বর্ষাকাল এবং সামনে শক্তিশালী নন্দ সাম্রাজ্যের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কায় বিপাশা বা বিয়াস নদী অতিক্রম করতে অস্বীকার করে। ফলে আলেকজান্ডারকে ভারত থেকে প্রত্যাবর্তনের সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
তবে ইতিহাসবিদদের মতে, তাঁর প্রত্যাবর্তনের একমাত্র কারণ কিন্তু ধন নন্দের সেনাবাহিনী ছিল না। কারণ হিসেবে সৈন্যদের নিজেদের মধ্যে বিদ্রোহ, দীর্ঘ অভিযানের ক্লান্তি, অসুস্থতা এবং আবহাওয়াগত সমস্যাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
◼ ধনসম্পদ ও কর ব্যবস্থা
ধন নন্দের রাজকোষ প্রাচীন ভারতের অন্যতম সমৃদ্ধ রাজকোষ বলে পরিচিত। বিভিন্ন সাহিত্যিক উৎসে নন্দদের বিপুল ধনসম্পদ ও গুপ্তধনের উল্লেখ রয়েছে। তামিল কবি মামুলনার এবং হিউয়েন সাঙের বিবরণীতেও নন্দদের এই গুপ্তধনের উল্লেখ আছে। জানা যায়, তিনি নাকি গঙ্গা নদীর তলদেশে বা ভূগর্ভস্থ গুহায় তাঁর মূল্যবান গুপ্তধন লুকিয়ে রেখেছিলেন। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ নেই।
বিভিন্ন প্রাচীন গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে যে তিনি রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য কঠোর করব্যবস্থা চালু করেছিলেন। বলা হয়, তার সময়ে নাকি কাঠ, চামড়া, পাথর, ফলমূল এবং ভেষজ দ্রব্যের ওপরেও অতিরিক্ত কর আরোপ করা হয়েছিল। এই কঠোর করনীতির কারণে তিনি সাধারণ জনগণ ও অনেক অমাত্যের কাছে অপ্রিয় হয়ে ওঠেন।
◼ চাণক্যের অবমাননা
প্রচলিত ইতিহাস ও 'মুদ্রারাক্ষস' নাটক অনুযায়ী, তক্ষশিলার মহান পণ্ডিত চাণক্য বা কৌটিল্য মগধে এসেছিলেন ভারতকে গ্রিক আক্রমণ থেকে রক্ষার উদ্দ্যেশে একতাবদ্ধ করতে। কিন্তু ধন নন্দ তাঁর দানশালায় চাণক্যেকে চরম অপমান করে রাজসভা থেকে বের করে দেন। এরপর চাণক্য ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর শিখা বা চুল উন্মুক্ত করে প্রতিজ্ঞা করেন যে, যতদিন না তিনি নন্দ বংশ উচ্ছেদ করছেন, ততদিন শিখা বাঁধবেন না।
পরবর্তীতে চাণক্য চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য নামে এক তরুণকে খুঁজে বার করেন এবং তাকে রাজনৈতিক ও সামরিক শিক্ষা প্রদান করেন। পরিকল্পনা, কূটনীতি এবং চন্দ্রগুপ্তের শক্তির দ্বারা তিনি ধীরে ধীরে নন্দ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এরপর তিনি নিখুঁত কূটনীতির সাহায্যে মগধের অসন্তুষ্ট জনগণ ও সৈন্যদেরকেও নিজেদের পক্ষে টেনে নেন।
নন্দ বংশের পতন
আনুমানিক ৩২১ খ্রিস্টপূর্বাব্দে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য চাণক্যের রণকৌশলে মগধের রাজধানী পাটলীপুত্র আক্রমণ করেন। এরপর এক তীব্র ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ধন নন্দ পরাজিত হন। এর মাধ্যমেই নন্দ বংশের পতন ঘটে মগধে মৌর্য বংশের প্রতিষ্ঠা হয়।
ধন নন্দের পরিণতি সম্পর্কে বিভিন্ন গ্রন্থে ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনা পাওয়া যায়। বৌদ্ধ ও জৈন ঐতিহ্য অনুযায়ী, চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ধন নন্দকে প্রাণদণ্ড না দিয়ে সপরিবারে পাটলীপুত্র ত্যাগের অনুমতি দেন। এরপর ধন নন্দ কিছু সম্পদ সঙ্গে নিয়ে নির্বাসনে চলে যান। অন্যান্য কিছু ঐতিহাসিক বর্ণনায় বলা হয়েছে, চূড়ান্ত সংঘর্ষে নাকি ধন নন্দ নিহত হন।

0 Comments